• শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৪:২২ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

রামগঞ্জে শিশুর পুরুষাঙ্গ পুড়লেন চিকিৎসক

Reporter Name / ২৯৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই, ২০২৩

মোঃ তৌহিদুল ইসলাম কবির, রামগঞ্জঃ লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে  সুন্নতে খাতনা করতে গিয়ে মাহাদী (৩) নামের এক শিশুর পুরুষাঙ্গ পুড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে সরোয়ার হোসেন নামের একজন ডিএমএফ ডিগ্রিধারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে ঢাকার মিডপোর্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে শিশুটি।
গত ৩১ মে দুপুরে পৌরশহরের রামগঞ্জ ইসলামিয়া হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ও ভূল চিকিৎসায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে দাবী ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের। এঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির দাদা আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সম্প্রতি ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা ব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
২৩ জুলাই রবিবার দুপুরে সরেজমিনে রামগঞ্জ ইসলামীয়া হাসপাতালে গেলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রবিউল আলম রিয়াজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের শাকতলা মিয়া রাজা পাটওয়ারী বাড়ীর নজরুল ইসলাম মামুনের ছেলে মাহাদী (৩) কে  সুন্নতে খাৎনা করানোর জন্য স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক আবদুর রহিমের পরামর্শে ঘটনার দিন সকাল ১১ টার দিকে রামগঞ্জ ইসলামীয়া হাসপাতালে নিয়ে আসে শিশুটির পরিবার। এসময় সার্জারী করছিলেন ডিএমএফ ডিগ্রীধারী ডা,সরোয়ার হোসেন। কিন্তু সুন্নতে খৎনা করানোর সময় ব্যবহৃত মেশিনের অতিরিক্ত তাপে পুড়ে যায় শিশুটির পুরুষাঙ্গ। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগে অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে দ্রুত নোয়াখালীর মাইজদীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে  শিশুটিকে রেপার করে ইসলামীয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত ডাক্তারের পরামর্শে  ঢাকার মিডফোর্ট হাসপাতালে ভর্তি হয়ে প্রায় ২ মাস ধরে চিকিৎসা নিচ্ছে শিশুটি।
ভুক্তভোগী শিশুটির দাদা আনোয়ার হোসেন বলেন, স্থানীয় শাকতলা ফার্মেসীর ডাঃ আবদুর রহিমের পরামর্শে আমার নাতিকে সুন্নতে খৎনা করানোর জন্য  রামগঞ্জ ইসলামীয়া হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে ডাঃ সরোয়ার হোসেনের ভুল চিকিৎসায় আমার নাতির পুরুষাঙ্গ পুড়ে সারাজীবনের জন্য পঙ্গু করে দিয়েছে তারা। তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ডাঃ সরোয়ারের বিচারের দাবী করে রামগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছি।
পল্লী চিকিৎসক ডাঃ আবদুর রহিম বলেন, সুন্নতে খৎনা করানোর জন্য আমার কাছে আসে শিশুটির
পরিবার। পরে আমি হাসপাতালের মার্কেটিং অফিসারের সাথে কথা বলে তাদেরকে রামগঞ্জ ইসলামীয়া হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু সুন্নতে খৎনা করার সময় মেশিনের অতিরিক্ত গরমে শিশুটির পুরুষাঙ্গ পুড়ে গেছে।
রামগঞ্জ ইসলামীয়া হাসপাতালের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল্লাহ মানিক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনার পর থেকেই ডাঃ সরোয়ার রোগীর স্বজনদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। আগামী সপ্তাহে তাদের সাথে বসে বিষয়টি সমাধান করা হবে।
এব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ডাঃ সরোয়ার হোসেন অসুস্থতার দোহাই দিয়ে কল কেটে দেয়। পরে একাধিক বার ফোন করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই কামাল হোসেন বলেন, উভয়পক্ষ বসে বিষয়টি সমাধান করবেন বলে আমাকে অভিযোগকারী আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন।
থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এমদাদুল হক বলেন, এব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছি। তবে ভুক্তভোগীরা মামলা করতে রাজী হননি। মামলা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ গুনময় পোদ্দার বলেন, ডিএমএফ ডিগ্রীধারী ডাক্তারগন মুসলমানি করতে পারবেন। তবে এ বিষয়টির উপরে অবশ্যই প্রশিক্ষন থাকতে হবে। ডাঃ সরোয়ারের প্রশিক্ষন আছে কিনা আমার জানা নেই। তবে লোক মুখে শুনেছি ভুল এনেস্থেসিয়া দেয়ার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া এব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে অভিযুক্ত ডাক্তার ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category